অগ্রদূত

  • Post
    mithun
    USER
    BD

    অগ্রদূত
    খালিল জিব্রান

    তুমিই তোমার অগ্রদূত। যে অট্রালিকা তুমি তৈরী করেছ তা তোমার অতিসত্তার ভিত্তি মাত্র। আর সেই অতিসত্ত্বারও হয়ে যাবে আরেক ভিত্তি।
    আমিও আমার অগ্রদূত, কারন সূর্যোদয়ে যে দীর্ঘ ছায়া আমার সামনে টানটান হয়, দুপুরে তাই আমার পায়ের কাছে গুটিয়ে আসবে। আরেক সূর্যোদয় হবে, আমার সামনে ছড়াবে আরেক ছায়া; সেও গুটিয়ে আসবে আরেক দুপুরে।
    চিরকাল আমরাই আমাদের অগ্রদূত ছিলাম, চিরকালই থাকবো। যা কুড়িয়েছি, আর যা কুড়োব সবই অকর্ষিত ক্ষেত্রের বীজ মাত্র। আমরাই মাঠ আমরাই কৃষক, যে কুড়োয় আর যা কুড়োই তাও আমরা।
    যখন তুমি কুয়াশায় ঘুরে বেড়ানো বাসনা, আমিও ছিলাম সেখানে, এক ঘুরে বেড়ানো বাসনা। তারপর আমরা একে অপরকে খুঁজলাম, আমাদের আগ্রহ থেকে জন্মাল স্বপ্ন। আর স্বপ্ন ছিল কালবন্ধনহীন; স্বপ্ন ছিল স্থান, সীমাহীন।
    আর যখন তুমি ছিলে জীবনের থরোথরো ঠোঁটে শব্দহীন শব্দ হয়ে, আমিও ছিলাম, আরেক শব্দহীন শব্দ। তারপর জীবন আমাদের উচ্চারণ করলো, আমরা এলাম গতকালের স্মৃতিমগ্নতা, আগামী কালের প্রতীক্ষার মাঝে। গতকাল মৃত্যুর দখলে, আগামীকালের জন্ম অনাগত।
    আমরা এখন ঈশ্বরের হাতে। তুমি তাঁর ডান হাতে সূর্য, আমি তার বাম হাতে পৃথিবী। তবও তুমি আমার থেকে বেশী উজ্জ্বল নও।
    আর আমরা, সূর্য আর পৃথিবী, আরো বিশাল সূর্য আর পৃথিবীর প্রারম্ভিকা মাত্র। আমরা চিরকাল প্রারম্ভিকাই থাকব।
    তুমিই তোমার অগ্রদূত, তুমিই আমার বাগানের দরজায় হেটে যাওয়া আগন্তক।
    আর আমিও আমার অগ্রদূত, যদিও বসে আছি গাছের ছায়ায়। মনে হয় স্তব্ধ।

    0
    0
  • You must be logged in to reply to this topic.